দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়
দুর্গাপূজা বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি আবেগ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। বছরের প্রতীক্ষার পর শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের গন্ধ আর ঢাকের আওয়াজ জানিয়ে দেয়—মা দুর্গা আসছেন।
আজ দুর্গাপূজা বিশ্বজুড়ে বাঙালিদের অন্যতম প্রধান উৎসব হলেও এর ইতিহাস বহু শতাব্দী পুরোনো।
দুর্গাপূজার ইতিহাস
পুরাণ অনুযায়ী, দেবী দুর্গা মহিষাসুর নামে এক অসুরকে বধ করার জন্য আবির্ভূত হন। দেবতারা যখন মহিষাসুরের অত্যাচারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তি থেকে দেবী দুর্গার সৃষ্টি হয়।
দশ হাতে বিভিন্ন অস্ত্র ধারণ করে দেবী মহিষাসুরের সঙ্গে টানা নয় দিন যুদ্ধ করেন এবং দশম দিনে তাকে বধ করেন। সেই কারণেই বিজয়া দশমী শুভ শক্তির অশুভের ওপর জয়ের প্রতীক।
GET 20% OFF
বাংলায় দুর্গাপূজার সূচনা
ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলায় জমিদার পরিবারগুলির উদ্যোগে ১৬শ ও ১৭শ শতকে দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তীকালে ১৭৯০ সালের দিকে গুপ্তিপাড়ায় প্রথম বারোয়ারি বা সর্বজনীন দুর্গাপূজার সূচনা হয় বলে অনেক গবেষক মনে করেন।
এরপর ধীরে ধীরে দুর্গাপূজা সাধারণ মানুষের উৎসবে পরিণত হয় এবং আজ এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
দুর্গাপূজার পাঁচটি প্রধান দিন
ষষ্ঠী
এই দিন দেবীর বোধন ও আমন্ত্রণের মাধ্যমে পূজার সূচনা হয়।
সপ্তমী
নবপত্রিকা স্নানের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
অষ্টমী
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। অঞ্জলি, কুমারী পূজা এবং সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
নবমী
বিশেষ পূজা ও হোম যজ্ঞের আয়োজন করা হয়।
দশমী
দেবীর বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার সমাপ্তি হয়। সিঁদুর খেলা ও বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় এই দিনের অন্যতম আকর্ষণ।
